রাজনীতি

বুথ কমিটিতে কোনো জল মেশানো চলবে না, অমিত শাহের কড়া বার্তা বঙ্গ বিজেপি কে!

বুথ কমিটিতে কোনো জল মেশানো চলবে না, অমিত শাহের কড়া বার্তা বঙ্গ বিজেপি কে! - West Bengal News 24

নিজস্ব প্রতিবেদন: আটের দশকে বুথ সামলাতেন অমিত শাহ। দলের সমর্থকদের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে নিয়ে আসতেন। গুজরাটের নারানপুরার সেই বুথ ম্যানেজারই সামলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব। জেপি নাড্ডাকে দায়িত্ব হস্তান্তর করলেও রশি এখনও অমিতের হাতেই।

সে কারণে বুথস্তরের সংগঠনের গুরুত্ব বোঝেন শাহ। ২০১৪ সালে উত্তরপ্রদেশে গেরুয়া ঝড় তুলেছিলেন তৃণমূলস্তরে সংগঠনকে পোক্ত করেই। আর বাংলায় বুথভিত্তিক সংগঠন না থাকলে কী পরিণতি হতে পারে, তা ভালোমতোই বোঝেন প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি।

দিল্লির হার থেকে শিক্ষা নিয়ে তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, বুথ কমিটিতে কোনও জল মেশানো চলবে না। সচক্ষে বুথ কমিটির সদস্যদের দেখতে হবে নেতাদের। বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ডাকাবুকো কর্মীদের দিতে হবে অগ্রাধিকার।

দিল্লিতে শেষবেলায় সাংসদ, নেতাদের নিয়ে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের চিরাচরিত কার্পেট বম্বিং কায়দায় চলেছিল প্রচার। কিন্তু ভোটের হার বাড়লেও আসন সংখ্যায় লাভ হয়নি বিজেপির। গোলি মারো, শাহিনবাদ ও ভারত-পাকিস্তানের মতো মন্তব্য ভোটে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে বলে

স্বীকার করে নিয়েছেন অমিত শাহ। তবে এর সঙ্গে সাংগঠনিক দুর্বলতাও নজর এড়ায়নি বিজেপির দক্ষ সংগঠকের। দিল্লিতে ভোটের আগে ‘পঞ্চ পরমেশ্বর’ নামে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। ওই বৈঠকে প্রতি বুথ থেকে এসেছিলেন ৫ জন।

কিন্তু ভোটের দিন বুথে তাঁদের দেখা মেলেনি। দিল্লির হাল দেখে শিক্ষা হয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের। বাংলায় আর সেই ভুল করতে চায় না তারা।

 

বুথ কমিটিতে কোনো জল মেশানো চলবে না, অমিত শাহের কড়া বার্তা বঙ্গ বিজেপি কে! - West Bengal News 24

 

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে অন্যান্য রাজ্যের ভোটের বিরাট ফারাক। এখানে তৃণমূলস্তরে সংগঠন না থাকলে শুধু হাওয়ায় হাওয়ায় জেতা যায় না। নইলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০১ সালেই মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যেতেন! মোদীর সেনাপতিও তা জানেন।

বাংলার যুদ্ধ জয়ে সে কারণে শক্তিশালী পদাতিক বাহিনী তৈরি করতে চাইছেন। তিনি এও জানেন, তৃণমূলস্তরে জল মেশানোর প্রবণতাও রয়েছে। তাই খাতায় কলমে নয়, বরং নেতাদের স্বচক্ষে দেখে নিতে বুথ কমিটির সদস্যদের। শুধু এটাই নয়, যাকে তাকে বুথ কমিটিতে রাখা চলবে না।

শাসক দলের চোখে চোখ রাখতে পারে, এমন ‘দমদার’ কর্মী দরকার। তাঁরাই বুথে বুথে দলের ভোট নিশ্চিত করবেন।প্রতিটি বুথের কর্মীদের ছবি-সহ তালিকা পাঠাতে হবে। কমিটি ঠিক কিনা তা যাচাই করবে নেতৃত্ব।

এর পাশাপাশি দলকে থাকতে হবে লড়াইয়ের ময়দানে। প্রতিটি বুথ কমিটিতে সামিল করতে হবে সমাজের সব অংশের মানুষকে। যুব ও মহিলাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বুথ কমিটির কাজকর্ম দেখতে হবে রাজ্য নেতাদের। কলকাতায় বসে নয়, বরং পৌঁছে যেতে হবে সংশ্লিষ্ট এলাকায়। বুথে রাতও কাটাতে হবে। ১০ মার্চের মধ্যে শেষ করতে হবে গোটা প্রক্রিয়া।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য