ডিজিটাল মিডিয়া বা অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলোকে কেউ সরকারিভাবে প্রাধান্য দেন নি?
মৃত্যুঞ্জয় সরদার

মৃত্যুঞ্জয় সরদার, কলকাতা:বিজ্ঞান যেমনি কুসংস্কার তেমনি অভিশাপ এটা আমরা সবাই জানি। বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে দারিও আমরা আজও অনেকেই পিছিয়ে রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ের উপরে।মানুষ হচ্ছে উন্নয়নের কান্ডারী যতদিন এগিয়ে আসছে মানুষতত্ত্ব ডিজিটাল রাইট হতে চলেছে।বর্তমান যুক্তা ডিজিটাল মিডিয়া অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ।আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের তামাম দুনিয়ার খবর হাতের মুঠোয় করে, আমরা যুবসমাজ চালিত হচ্ছি। তবে পত্র পত্রিকা বা খবরের কাগজের প্রাধান্য তা আজও কমেনি।
আজ পর্যন্ত খবরের কাগজ বাংলা বাঙ্গালী তথা ভারতবর্ষের উদ্ধ বয়স্করা প্রাধান্য দিচ্ছে।সকাল থেকে ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে খবরের কাগজ পড়া টা যে কতটা ইন্টারেস্টিং, সেটা আজও সেই অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারেনি মধ্যবয়স্করা।যতই ডিজিটাল যুগ আগে আসুক না কেন ভারতবর্ষের এক গবেষণা বলছে। যে কাগজের খবরের প্রাসঙ্গিক কথা, আজও মধ্যবয়স্ক এই সমাজের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বহন করে চলেছে। বর্তমান নতুন প্রজন্মের দুনিয়াতে ডিজিটাল মিডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম খবরের কাগজের বিষয়টা এতটা গুরুত্ব দিচ্ছে না ।
তাদের হাতে একটি এন্ড্রয়েড সেট থাকার ফলে, তারা তামাম দুনিয়া ডিজিটাল মারফতে ফেসবুক, টুইটার, গুগল, হোয়াটসঅ্যাপ, এর দুনিয়ায় দেখতে পাচ্ছে বিশ্বের নানান ধরনের বার্তা। আগামী দিনের এটাই সত্য আমাদের সকলের মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে।ঘরে বসে সমস্ত পরিষেবা উপভোগ দিতে পারে একমাত্র ডিজিটাল মাধ্যম। তেমনি প্রযুক্তিবিদ্যা একটু একটু করে এগিয়ে চলেছে ভারত বর্ষ তথা এই বাংলাতে।ভবিষ্যতে এমন একদিন আসবে ঘরে বসে একটা মেইল করলে সবকিছু প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান পেয়েও যেতে পারেন। সেই পথে এগোচ্ছে ডিজিটালআইস করে দেশের তথা রাজ্যের প্রশাসকরা।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ডিজিটাল মিডিয়াকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়নি কেন্দ্র রাজ্য সরকার কেউ না।সর্বপ্রথম ডিজিটাল মিডিয়াকে আমরা সামনে রেখে একটু একটু করে ভাবতে শুরু করেছিলাম আমি নিজেই।সাংবাদিকদের ভবিষ্যতে পাশে দাঁড়াতে গিয়ে, আমি কয়েকজন প্রতিনিধি কে নিয়ে সারা ভারতবর্ষের বুকে আজ থেকে পাঁচ বছর আগে ইন্ডিয়ান জার্নালিস্ট এন্ড অল এডিটর অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠনের জন্ম দিয়েছিলাম।অনলাইন মিডিয়ার স্বীকৃতির দাবিতে সর্বপ্রথমে আমরা প্রতিবাদ ও দাবি তুলেছিলাম যাতে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়।
দাবি মান্যতা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার ও আমাদের রাজ্য সরকার, তবে এ বছরে অধিবেশনে অনলাইন বা ডিজিটাল মিডিয়াকে সাংবাদিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে নতুন আইন আনবে বলে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। স্বীকৃতি দিতে চেয়েছিল প্রকাশ্য সবাইকে। তবে অধিবেশনের সময়ে করোনাভাইরাস এর মতন মহামারী সারাবিশ্বে যেভাবে অতি মহামারী পর্যায় নিয়ে গেল ।এবং লকডাউন শুরু হয়ে গেল সে কারণে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ডিজিটাল মিডিয়াকে সাংবিধানিক স্বীকৃতির কথা ঘোষণা করেনি সরকার।সেই গন্ধ শুকে বাংলা তথা ভারতবর্ষের বুকে গজিয়ে উঠছে নানান ধরনের সংগঠন, যারা অনলাইন স্বীকৃতির দাবি কথা বলছে।
আমার দেখনা পথে চলে আমাকে অস্বিকার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে এইসব সংগঠন। কিন্তু আমি এই লেখাতে বলে যেতে চাই সেটা কোনদিনও সম্ভব নয় সরকার বাহাদুরের কাছে এ কথাগুলো স্পষ্ট যে এই আন্দোলনটা একমাত্র আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আমি নিজেই নেতৃত্ব দিয়েছিলাম ভারতবর্ষের মাটিতে সর্বপ্রথম। যাইহোক এই কথাগুলো আমার লেখার বিষয়বস্তু ছিল না তবে কথাপ্রসঙ্গে লিখতে বাধ্য হলাম।আজ বাংলাদেশ অনুমোদন দেয় কাল তাও আমরা ভাবতে পারি না। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের এটাই মনে হচ্ছে ফারাক।
বাংলাদেশের সরকার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ডিজিটাল মিডিয়াকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।এখানে দাঁড়িয়ে আজকেরে আমার ভারতবর্ষে এখনো ভাবনা-চিন্তার জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে অনলাইন মিডিয়াকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হবে কিনা। বাংলাদেশের সরকার বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৯২টি দৈনিক পত্রিকার অনলাইন পোর্টালকে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধনের অনুমতি প্রদান করা হলো।
প্রাথমিকভাবে নিবন্ধনের অনুমতিপ্রাপ্ত ৯২টি পোর্টালকে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে ২০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধও জানানো হয়েছে।এর আগে, গত ৩০ জুলাই নিবন্ধনের জন্য অনুমতি পায় ৩৪টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। প্রকাশিত তালিকায় দেশে প্রতিষ্ঠিত অনেক পত্রিকার নাম আসেনি।
অনলাইন নিবন্ধনের অনুমতি পাওয়া পত্রিকাগুলোর তালিকা:
ঢাকা মহানগরের দৈনিক পত্রিকাগুলোর নিবন্ধন তালিকা: বাংলাদেশ প্রতিদিন, প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, ইত্তেফাক, আমাদের সময়, জনকণ্ঠ, সমকাল, সংবাদ, ভোরের কাগজ, মানবকণ্ঠ, প্রতিদিনের সংবাদ, ইনকিলাব, বাংলাদেশের খবর, আমার সংবাদ, আমাদের অর্থনীতি, মানবজমিন, ভোরের ডাক, আলোকিত বাংলাদেশ, আজকালের খবর, ঢাকা প্রতিদিন, বর্তমান, বণিক বার্তা, জনতা, খোলা কাগজ, গণকণ্ঠ, সময়ের আলো, যায় যায় দিন, লাখোকণ্ঠ, বাংলাদেশের আলো, দেশ রূপান্তর, দৈনিক ঢাকা টাইমস, দৈনিক বাংলা, জাগরণ, বাংলাদেশ জার্নাল, আমার সময়, আমাদের নতুন সময়, নয়াদিগন্ত, আমার বার্তা, দিনকাল, বাংলাদেশ কণ্ঠ, নবচেতনা, হাজারিকা প্রতিদিন, সংবাদ সারাবেলা, অগ্নিশিখা ও জবাবদিহি।
ইংরেজি দৈনিক পত্রিকার তালিকা: এশিয়ান এইজ, বাংলাদেশ পোস্ট, বাংলাদেশ টুডে, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, নিউ এইজ, অবজারভার, ডেইলি স্টার, ডেইলি সান, ডেইলি ট্রাইব্যুনাল ও ঢাকা ট্রিবিউন।
বিভাগীয় শহরের দৈনিক পত্রিকার পোর্টালের তালিকা: ময়মনসিংহের স্বদেশ সংবাদ ও জাহান। চট্টগ্রামের আজাদী, পূর্বকোণ, পূর্বদেশ, আমাদের চট্টগ্রাম, নয়াবাংলা, সুপ্রভাত বাংলাদেশ, সাঙ্গু, পূর্বতারা, চট্টগ্রাম প্রতিদিন ও ডেইলি পিপলস ভিউ। রাজশাহীর সোনার দেশ, সোনালী সংবাদ, সানশাইন, দৈনিক বার্তা। রংপুরের দৈনিক পরিবেশ, প্রথম খবর, যুগের আলো ও দাবানল। খুলনার পূর্বাঞ্চল, প্রবাহ, সময়ের খবর ও প্রবর্তন। বরিশালের দৈনিক আজকের বার্তা, আজকের পরিবর্তন, শাহনামা ও কীর্তনখোলা।
সিলেটের দৈনিক সিলেটের ডাক, জালালাবাদ, সবুজ সিলেট, শ্যামল সিলেট, কাজিরবাজার, জৈন্তাবার্তা ও শুভ প্রতিদিন।শুধু বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বের সমস্ত দেশ এভাবে ডিজিটাল মিডিয়াকে গুরুত্ব দিতে চলেছে।এদিক থেকে আমাদের দেশ ভারত বর্ষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ডিজিটাল প্লাটফর্মের জন্য কোটি কোটি টাকা সরকারি খরচা করছে, অথচ অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা ডিজিটাল মিডিয়াকে এখন পর্যন্ত সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়নি।বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়া ফেক নিউজ নিয়ে নানান ভাবে হইচই চলছে। এটা তা কতটা বাস্তব, কথাটা অবাস্তব, সে বিষয়েও লেখার মধ্যে কিছু কথা না বললে, লেখা টি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

ফেক নিউজ কান্ডারিরা কলকাতার বুকে অরগানাইজেশন করছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল কে নিয়ে। সেইসব অরগানাইজেশনের কর্তারা সৎ নিষ্ঠাবান ত্যাগী সাংবাদিকদের উপর বিভিন্নভাবে ফোন করে প্রেসার ক্রিয়েট করছে, হুমকি দিচ্ছে নানান কথা বলছে।ওরা যেন বিশ্বের সব সাংবাদিকদের মাথা কিনে নিয়েছে। সেই প্রসঙ্গ ফেক নিউজ সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে এই লেখাতে আমি কিছু কথা তুলে ধরতে চাই।সোশ্যাল মিডিয়ায় হরেক রকমের প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। সেই সমস্ত প্ল্যাটফর্মে কোনো একটা কিছু লিখে পোস্ট করা, সেটাকে জনে জনে শেয়ার করা, এখন সেটাও না কি ‘নিউজ’।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আচমকা ফেক নিউজের বহর বাড়ছে বলে সরকারি ভাবেও দাবি করা হচ্ছে। এই ফেক নিউজ বলতে ভুয়ো খবর। তবে শুধু মাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ‘ফেক নিউজ’ই নয়, এখন নাক ঘুরিয়ে নিশানায় নিউজ পোর্টালের খবরও।কতগুলো খুব সহজ কথা এতটা চওড়া করে বলার কারণ, করোনাভাইরাস (Coronavirus) প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে ভুয়ো খবরের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে সরব হচ্ছে কেন্দ্র, রাজ্য সরকার, এমনকি সেলেব্রিটিরাও। কখনও অভিযোগ উঠছে, রাজনৈতিক দলের আইটি সেল ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে।
কখনও অভিযোগ উঠছে, সংবাদ মাধ্যম হিসাবে পরিচিতরাও ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে। কিন্তু অভিযোগের নিশানায় বর্তমানের অতি প্রয়োজনীয় নিউজ পোর্টালগুলি। তাদের পরিবেশিত খবরের লিঙ্ক সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার হয়।এ কথা অস্বীকার করার কথা নয়, রাজনৈতিক দলের মদতপুষ্ট কিছু নিউজ পোর্টালও রয়েছে। কিন্তু নিউজ পোর্টাল জন্মানোর অনেক আগে থেকেই পেড নিউজ বলে একটা কথা চালু রয়েছে। খবরের কাগজ অথবা বৈদ্যুতিন খবরের চ্যানেল পেড নিউজে হাত পাকিয়েছে অনেক দিন আগেই। কিন্তু এখন সোশ্যাল মিডিয়া আর ফেক নিউজের চক্করে ওয়েবসাইট-নির্ভর পোর্টালগুলিকে কাঠগড়ায় তোলার অদৃশ্য প্রয়াস নজর এড়াচ্ছে না। কী ভাবে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই জানিয়ে দিয়েছে, খবরের কাগজের মাধ্যমে মোটেই করোনাভাইরাস ছড়ায় না। অনেকে বিশ্বাস করছে, অনেকে নয়। খবরের কাগজের এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, তাঁদের অনেক গ্রাহকই কাগজ নেওয়া বন্ধ করে দিচ্ছেন। যদিও কাগজ থেকে ভাইরাস ছড়ানো সম্ভব নয়, এমন বোঝার মতো বুদ্ধি ওই গ্রাহকদেরও রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। এসব যাই হোক না কেন, আমরা ক’জন জানি মিডিয়া জগতের ইতিহাসের কথা।সেই কথাগুলো আমার কলমে তুলে ধরে শেষ করতে চাই এই লেখাটি।আধুনিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে সাংবাদিকতার উৎপত্তি অষ্টাদশ শতাব্দীর ইউরোপে। উপনিবেশ হওয়ার কারণে এশিয়ার অন্য যে কোন দেশের আগেই বাংলা অঞ্চলে সাংবাদিকতা শুরু হয়।
১৭৮০ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত জেমস অগাস্টাস হিকি-র বেঙ্গল গেজেট প্রকাশনার মাধ্যমে বাংলায় আধুনিক সাংবাদিকতার ইতিহাস শুরু হয়। পত্রিকার বিজ্ঞাপনে উলেখ করা হয়েছিল, সকল পক্ষের জন্য উন্মুক্ত হলেও এটি কারও দ্বারা প্রভাবিত নয় এমন একটি সাপ্তাহিক, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক পত্রিকা। ১৮১৮ সালে বাংলা সাংবাদিকতা যাত্রা শুরু করে। সে বছর বাঙ্গাল গেজেট (কলকাতা), দিগদর্শন (কলকাতা) এবং সমাচার দর্পণ (শ্রীরামপুর) নামে তিনটি সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম বাংলা সংবাদপত্র সমাচার দর্পণ শ্রীরামপুর থেকে ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়।
বাংলাদেশের বর্তমান ভূখন্ড থেকে প্রথম প্রকাশিত সাপ্তাহিক রংপুর বার্তাবহ প্রকাশিত হয় রংপুর থেকে ১৮৪৭ সালে এবং ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঢাকা নিউজ প্রকাশিত হয় ১৮৫৬ সালে। ঢাকা প্রকাশ ১৮৬১ সালে এবং ঢাকা দর্পণ ১৮৬৩ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।ইতিমধ্যে অন লাইন খবরের কাগজ আবির্ভূত হল ব্যতিক্রম হিসেবে। গড়ে উঠল নিউজ পোর্টাল’, যেখানে বিনোদন নয়, বিশ্লেষণ নয়, শুধু খবরেরই প্রাধান্য। যেহেতু প্রকাশমাত্র অন লাইন কাগজ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ে, এজন্য সেসব খবরের যথার্থতা, সত্যতা ও সঠিকতার প্রতি সব কাগজকেই একটু বেশিই যত্নবান হতে হয়।
পাঠকদের সুবিধা, একটি খবরের সত্যতা যাচাই করার জন্য একাধিক সূত্রকে কাছে পাওয়ার সুবিধা। এটা শুভ খবর, বাংলাতেও অন লাইন সংবাদপত্র প্রকাশের উদ্যোগ শুরু হয়েছে।সত্তরের শুরু থেকেই বাঙালির প্রতিষ্ঠান বিরোধী সাংস্কৃতিক চেতনা বদলে বদলে যাচ্ছিল প্রতিষ্ঠান বিরোধী রাজনৈতিক চেতনায়। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বিপক্ষে ভাগ হতে শুরু করল সামাজিক বিন্যাস। সংবাদপত্র এই বিভাজনকে তাদের পাঠক মহলেও নিজ নিজ স্বার্থে উসকে দিতে থাকল।
তারা এক এক পক্ষের পাঠকের চাহিদাকে মাথা রেখে সংবাদচয়ন, তার বিন্যাস এবং বয়ানে ভাষার ব্যবহারে যত বেশি সংখ্যক পাঠক ধরে রাখার নানা কৌশলে নিজেদের সাজাতে লাগল। আর যাই ভারত বর্ষ তথা বাংলার বুকে ডিজিটাল মিডিয়া বা অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলোকে কেউ সরকারিভাবে প্রাধান্য দেন নি? সারা ভারত বর্ষ তথা বাংলার বুকে সর্বপ্রথম অনলাইন মিডিয়ার জন্য লড়াই করে চলেছেন ইন্ডিয়ান জার্নালিস্ট এন্ড অল এডিটর অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় সম্পাদক আমি নিজেই।তবে যতদিন তার জীবন রয়েছে ততদিন তিনি বাংলার অসহায় সাংবাদিকদের পাশে রয়েছেন আছি।
এশিয়া মহাদেশে ষাটের দশকের শেষ দিকে উন্নয়ন সাংবাদিকতার শুরু। তখনকার নব্য স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোতে উন্নয়নের লক্ষ্যে যোগাযোগের ধারণাটি যখন রাজনৈতিক এবং বিদ্যাজাগতিক সমর্থন পেয়েছিলো, ঠিক তখন থেকেই। সে সময় উন্নয়ন সাংবাদিকতাকে মূল্যায়ন করা হয় জাতীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে। বোঝাই যাচ্ছে এই সাংবাদিকতার গুরুত্ব কতখানি।ধীরে ধীরে, অন্যান্য মহাদেশেও ছড়িয়ে পড়ে এই ‘নতুন’ সাংবাদিকতার ধারণা, বিশেষ করে আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায়।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলার পথে আবিষ্কৃত হয়েছে নতুন নতুন নিয়ম, ধারণা, এবং অনালোকিত অনেক কিছুই হয়েছে আলোকিত। তবে, বলতেই হচ্ছে উন্নয়ন সাংবাদিকতার নতুন নতুন ধারণাগুলো এখনো সন্নিবেশিত হয়নি বিদ্যাজাগতিক পরিমন্ডলে, সাংবাদিকতার অধ্যয়নে।আমাদের দেশের তরুণ সাংবাদিকরা যারা উন্নয়ন সাংবাদিকতায় আসছেন বা আগ্রহী, তাদের উচিত হবে আরও সামগ্রিকভাবে ‘উন্নয়ন’ শব্দটির এবং এর বলয়ের বিচার-বিশ্লেষণ করা। বর্তমানের ‘উন্নয়ন সাংবাদিক’-কে হতে হবে একজন সচেতন সমাজ-উদ্যেক্তা যার চোখে ধরা পড়তে হবে সমাজের প্রতিটি স্তরের ফাঁকগুলো।
অনুসন্ধানী চোখে সে রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে যাতে নীতিনির্ধারণী মহলে প্রভাব পড়ে এবং সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যাগুলোর দ্রুত নিরসন করে। আর সেভাবেই তো সূচিত হয় মানব উন্নয়ন। উন্নয়ন সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমষ্টির কল্যাণ নিশ্চিত হতে হবে। সমাজের অগ্রগতি সাধিত হতে হবে। তবেই নিজের স্বার্থের জন্য ভুলে গেছি সাংবাদিকতার মূল চরিত্র। টাকার বিনিময় হয় কে নয় করছি, আর নয় কে ছয় করছে ।সাংবাদিকতার উপরে ভরসা হারিয়েছে সাধারণ মানুষের পুলিশ প্রশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালিত নেতা মন্ত্রীদের।টাকা দিয়ে সাংবাদিকের স্বাধীন সত্তাকে কিনে ফেলেছে অনেকেই, তার জন্যই সদ সাংবাদিকদের আজ অনাহারে অর্থের অভাবে দিন চলেছে। অনেকেই খুন হয়েছে ,কেউ আবার আত্মহত্যাও করেছে। এসবের সম্মুখীন হতে হয়েছিল সৎ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিক মৃত্যুঞ্জয় সরদার কে ।
আজও কিছু অসৎ সাংবাদিকতা করে যারা তার পিছনে পড়ে রয়েছেন সাংবাদিকতা জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য মৃত্যুঞ্জয় কে। হয়তো একদিন মৃত্যুঞ্জয় সরদার যেকোনো ভাবে খুন হতে পারে।এদেশে পত্রপত্রিকার প্রকাশ এবং তা অব্যাহত রাখা কখনই মসৃণ ছিল না। ১৭৮০ সালে হিকির বাঙ্গাল গেজেট থেকে শুরু করে অদ্যাবধি এদেশের পত্রিকাগুলির আইনি প্রক্রিয়ায় ডাক সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়া; সম্পাদক, মালিক ও সাংবাদিকের কারাবরণ; অর্থদন্ড ও জরিমানা, প্রেস বাজেয়াপ্ত হওয়া, নির্যাতন-হত্যার মুখোমুখি দাঁড়ানো ও শিকার হওয়া; পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়া এমনতর বহু ধরণের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে এদেশের পত্রিকা প্রকাশনাকে।
১৫ আইন বা ক্যানিং ল’ (১৮৫৭); প্রেস অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অব বুকস অ্যাক্ট (১৮৬৭); ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট (১৮৭৮); সমুদ্র শুল্ক আইন (১৮৭৮); টেলিগ্রাফ আইন (১৮৮৫) ধারা ৫; ডাকঘর আইন (১৮৯৮) ধারা ২৭ ক থেকে ২৭ ঘ; ফৌজদারি কার্যবিধি (১৮৯৮); ভারতীয় দন্ড বিধি আইনের ১২৪ ক এবং ১৫৩ ক ধারা; নিউজপেপার (ইনসাইনমেন্ট টু ওফেন্স) অ্যাক্ট (১৯০৮); প্রেস অ্যাক্ট (১৯১০); রাষ্ট্র (অনুরাগের বিরুদ্ধে রক্ষা) আইন (১৯২২); সরকারি তথ্য গোপনীয়তা আইন (১৯২৩); সংবাদপত্র (জরুরি ক্ষমতা) আইন (১৯৩১); বৈদেশিক সম্পর্ক আইন (১৯৩২); রাষ্ট্র (নিরাপত্তা) আইন: ধারা-৩ (১৯৩৪); পাকিস্তান দন্ড বিধি আইন; পাকিস্তান নিরাপত্তা আইন (১১ ও ১২ ধারা); প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অর্ডিন্যান্স (১৯৬০); প্রাদেশিক জন নিরাপত্তা আইনসমূহ ছাড়াও সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণবিধি, ফৌজদারি আইন, জন শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ এবং বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক শাসন আমলে নিয়ন্ত্রণমূলক ফরমান; দ্যা প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট-১৯৭৩; স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট-১৯৪৭ প্রভৃতির মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠী এদেশের সাংবাদিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে। ১৯৯০ সালে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ কর্তৃক নিবর্তনমূলক কয়েকটি আইনের রদ এবং ২০০৯ সালের রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট এর প্রবর্তন এদেশের সাংবাদিকতাকে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। West Bengal News 24-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)



